সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধিঃ মোঃ রুবেল সিকদার
পুলিশ ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে পিরোজপুরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে পিরোজপুর সদর থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পৌর শহরের নায়োরী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পিরোজপুর সদর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি শেখ শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রিয়াজউদ্দিন রানা, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম।
আলোচনায় পিরোজপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে জেলার বিভিন্ন অভিযানে পাঁচটি বিদেশি অস্ত্রসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাদকের বিস্তারের তুলনায় এসব উদ্ধারকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক বিক্রেতাদের পাশাপাশি মাদক গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু পুলিশের অভিযান চালিয়ে একটি এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সচেতনতা বাড়িয়ে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।